বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১১ অপরাহ্ন

নোটিশঃ-
রাজৈর নিউজ অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। নিত্যনতুন সকল সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের নিউজে চোখ রাখুন:- https://www.facebook.com/rajoirnews  তাছাড়া সংবাদ এর ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে  BanglaNews Tube
সর্বশেষ সংবাদঃ-
মাদারীপুরের নদী বেষ্টিত ধুরাইলের শিক্ষার বাতিঘর খ্যাত একটি বিদ্যালয় ও একজন শিক্ষকের কথা “সৃজনশীল তোমার খোঁজে” প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিবচরে মেধা বিকাশে নবপ্রভার ব্যতিক্রম আয়োজন সৌদি আরবে ব্রয়লার বিস্ফোরনে শিবচরের ১ যুবকসহ নিহত ৪ রাজৈরে পাইকপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের শুভ উদ্বোধন ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ স্বামীর চাপাতির কোপে স্ত্রী গুরুতর আহত শিবচরে শিশু ভাতিজাকে টয়লেটের মেঝেতে পুতে রাখলো চাচী ও চাচাতো বোন, গ্রেপ্তার শেষে ৩ দিন পর উদ্ধার রাজৈরে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্বামীকে পাগল সাজিয়ে পাবনা হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগ শিবচরে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাক্স বিতরন শিবচরে অটো ভ্যান চাপায় এক শিশু নিহত রাজৈরে পৌরসভা কার্যালয়ে রহস্যজনক চুরি, থানায় অভিযোগ
করোনার কারণে মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্ষতির মধ্যে পড়েছে ব্যবসায়ীরা ॥ লাখো ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

করোনার কারণে মাদারীপুরের রাজৈরে ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্ষতির মধ্যে পড়েছে ব্যবসায়ীরা ॥ লাখো ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

20190528_134717

add 720x200

নিত্যানন্দ হালদার,মাদারীপুরঃ প্রতি বছর ১৩ ই জ্যৈষ্ঠ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী দীঘিরপাড় মহামানব শ্রীশ্রী গনেশ পাগল সেবাশ্রমে তিন দিন ব্যাপী উপমহাদেশের অন্যতম কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হলেও অতিমারী করোনার কারণে এবছর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা। এতে ক্ষতির মধ্যে পড়েছে দুই সহস্রাধিক বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীরা।পর পর দুই বছর কুম্ভমেলা বা কামনার মেলায় আসতে না পারায় দেশ বিদেশের ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ১৬৭ একর জমিতে এক রাতের জন্য দেড়,শ বছরের ঐতিহাসিক কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হলেও মেলায় বেঁচাকেনা হয় তিনদিন।

সরেজমিন গিয়ে এলাকার সুধীজন ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনে যে অমৃত সুধা উঠেছিল তা চারটি কুম্ভ পাত্রে ভারতের হরিদ্বার,প্রয়াগ,উজ্জয়িনী ও নাসিক এ চারটি স্থানে রাখা হয়েছিল।এ ঘটনার পর থেকে মুনি ঋষিরা কুম্ভ মেলার আয়োজন করে আসছেন। ১৪০ বছর পূর্বে ১৩ জন সাধু ১৩ কেজি চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ই জ্যৈষ্ঠ মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন।সেই থেকে কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় মহামানব শ্রীশ্রী গনেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।এক রাতের মেলা হলেও মেলা চলে তিনদিন পর্যন্ত। প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুরো একটি এলাকার বাড়ী-ঘর,মাঠ-ঘাট ও ক্ষেত-খামারে কোন জায়গা খালি থাকে না মানুষের পদচারণায়।

বরিশাল,রাজশাহী,বগুড়া,চিটাগং,রংপুর,যশোর,খুলনা,ফরিদপুর,রাজবাড়ী,মাদারীপুর,গোপালগঞ্জ, গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে কুম্ভমেলায় ভক্তবৃন্দ আসে।এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপাল থেকেও বহু ভক্তবৃন্দ আসে এতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা বা এ কামনার মেলায়।এ মেলায় আসা হাজার হাজার সাধু সন্যাসী ও তার ভক্তরা একতারা আর দোতারায় সুর দিয়ে সারা রাত মেতে থাকেন।মেলায় দেশ বিদেশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০লাখ ভক্তের উপস্থিতিতে আর দলে দলে জয় ডংকা বাজিয়ে ও জয় হরিবল ধ্বণি করতে করতে সাধু সন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা বাসে, ট্রাকে, ট্রলারে ও পদব্রজে আসে মেলা প্রাঙ্গণে।

দেশ বিদেশ থেকে আসা এসব সাধু সন্যাসী ও ভক্তরা ১০৮টি মন্দিরের প্রতিমা দর্শন, প্রার্থনা,আরাধনা,পূজা-অর্চণা,ধর্মীয় সঙ্গীত,নৃত্য-বাদ্য বাজনা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করেন।এ মেলা উপলক্ষে ৭ দিন পুর্ব থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে দোকানিরা।বাঁশ বেতের শিল্প কারু কাজ খচিত গৃহস্থালী মালামাল,মৃৎ শিল্প বা মাটির তৈরী তৈজসপত্র,বাহারী মিস্টি,দৃষ্টি আকর্ষনীয় খেলনা ও বাহারী প্রসাধণী পণ্য দিয়ে সাজাবে কমপক্ষে ২সহস্রাধিক বিভিন্ন ধরনের স্টল।তবে বেশী ভীড় জমে মিষ্টির দোকান ও হোটেলে। বিগত দিনে এ মেলায় ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে মাদারীপুরের শিবচরের ভক্তদের উদ্যোগে ভক্তসেবার আয়োজন করে। করোনায় সবই মাটি করে দিয়েছে।

মাদারীপুরের নিউ বরিশাল হোটেলের মালিক বিকাশ চন্দ্র মজুমদার জানান,তিনি কদমবাড়ী গনেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘের কুম্ভমেলায় প্রায় ১০বছর যাবৎ হোটেল ব্যবসা করে আসছেন। এক রাতের মেলা হলেও তাদের হোটেলে বেচা কেনা তিন দিন পর্যন্ত। বেচাকেনাও ভালো হয়। কিন্তু করোনার কারণে পর পর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন এখানকার হোটেল ব্যবসায়ীরা। তিনি আরো জানান,এ মেলায় মাদারীপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার কয়েক শ হোটেল ব্যবসায়ীরা এ মেলায় এসে থাকেন।অধিকাংশ হোটেল ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।

মাদারীপুরের গনেশ পাগল মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক চন্দন শিকারী জানান,অপেক্ষায় থাকি কদমবাড়ীর কুম্ভমেলার জন্য। এ মেলায় বাহারী মিষ্টি বিক্রি করে ব্যাপক লাভবান হন তারা। কিন্তু পরপর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন তারা।

কদমবাড়ী ইউনিয়নের একজন প্রবীন শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান,করোনার কারণে কদমবাড়ীর কুম্ভমেলা দুই বছর অনুষ্ঠিত না হওয়ায় লাখো ভক্তের মতো আমাদের কদমবাড়ীর মানুষের মনেও শান্তি নেই। আগত ভক্তদের পরশ পেয়ে আমরাও ধন্য হই।

মেলা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রণব বিশ্বাস বলেন,অতিমারী করোনার কারণে গত বছরও কৃম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয় নাই,এ বছরও মেলা অনুষ্ঠিত হবেনা।প্রায় ১৪০ বছর যাবৎ ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকেন।করোনার কারণে পর পর দুই বছর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এলাকার মানুষ ও ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুজ্জামান জানান,করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে সরকার কর্তৃক বিধি নিষেধ আরোপ থাকার কারণে ১৩ ই জ্যৈষ্ঠ কদমবাড়ীর কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হবেনা।বিষয়টি নিয়ে আমি কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি।

Comments

comments

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

add 720x200

Leave a Reply




add 300x600

উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক