শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ-
রাজৈর নিউজ অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। নিত্যনতুন সকল সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের নিউজে চোখ রাখুন:- https://www.facebook.com/rajoirnews  তাছাড়া সংবাদ এর ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে  BanglaNews Tube
সর্বশেষ সংবাদঃ-
উপজেলা উপ-নির্বাচনঃ ভোট কেন্দ্রের ভিতরে যাওয়া আসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ রাজৈরে উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার জয় টেকেরহাট বন্দরে চিকিৎসার অবহেলায় সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ,ধামাচাপা দেয়া চেষ্টা রাজৈরের টেকেরহাটে নৌকা প্রতীক পোড়ানোর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল  রাজৈরে নৌকা প্রতীক পোড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের। আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে নৌকার পক্ষে কাজ না করার অভিযোগ শিবচরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নবম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষন, ধর্ষক গ্রেফতার মাথায় মাফলার পেচানোর সময় ছোয়া রাজৈরে দুই গ্রামবাসির মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ,দোকানপাট ভাংচুর,পুলিশের শর্টগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ,৪০ জন আহত রাজৈরে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে নতুন বই ও শীতবস্ত্র বিতরণ রাজৈরে ৩দিন ব্যাপী শীতকালীন মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন রাজৈরে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত,আহত ২
করোনার কারণে হাট বন্ধ থাকায় মাদারীপুরের কোরবানীর পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী ও খামারীরা

করোনার কারণে হাট বন্ধ থাকায় মাদারীপুরের কোরবানীর পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী ও খামারীরা

20210707_220612

add 720x200

নিত্যানন্দ হালদার,মাদারীপুরঃ কোরবানীর আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকী।এরই মধ্যে মাদারীপুরের খামারীরা গরু মোটা তাজা করণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যান্য বছর ঈদের ২/৩ সপ্তাহ আগ থেকে পশুর হাট মেলতে শুরু করলেও এ বছর করোনার কারনে হাট বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে ব্যবসায়ী ও খামারীরা।গৃহস্থরাও পশু নিয়ে পড়েছে বেকায়দায়।খামারেও উল্লেখযোগ্য কোন ক্রেতা না আসায় খামারের শ্রমিকরাও তাদের বেতন পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। বেশি লাভের আশায় গৃহস্থ ও খামারীরা কোন কেমিক্যাল ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজা করায় খরচ পড়েছে বেশি। অতিমারী করোনার কারনে গরুর হাট বন্ধ থাকায় অনলাইন প্লাটফর্ম এর মাধ্যমেও বেচা কেনায় তেমন সাড়া পাচ্ছেননা গৃহস্থ ও খামারীরা।লোকসান এড়াতে পশু বিক্রিতে ক্রেতাদের আকর্ষনীয় সুযোগ সুবিধারও ঘোষনা দিয়েছে খামারীরা।কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে আগামী ১৪ তারিখের পর সীমিত আকারে গরুর হাট বসানোর আশ^াস দিলেন জেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।

জানা যায়,মাদারীপুর জেলায় এ বছর ছোট বড় মিলিয়ে কোরবানীর জন্য হৃষ্টপুষ্টকরণ খামারের সংখ্যা রয়েছে ২ হাজার ৯৮টি।আর ডেইরিসহ মোট খামারের সংখ্যা ১৬হাজার। কোরবানীর জন্য চাহিদার চেয়েও বেশি পশু রয়েছে জেলায়।বৈশি^ক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে মাদারীপুরের সকল পশুর হাট।অন্যান্য বছর ২/৩ সপ্তাহ আগ থেকেই কোরবানীর পশুর হাট মিলতে শুরু করে। এ বছর কঠোর বিধিনিষেধের কারনে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।পশুর হাট না মেলায় এবং খামারে ও গৃহস্থদের গরু কিনতে না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে খামারী ও গৃহস্থরা। এ বছর খামারীদের এবং গৃহস্থদের গরু কেনাবেচা অন্য বছরের তুলনায় অনেক কম। অনলাইনে গরু কেনাবেচা তেমন সাড়া পড়ছেনা। নামীদামী কিছু গরু দেখতে আসে উৎসুক জনতা। বেচাকেনা তেমন হচ্ছেনা।গৃহস্থরা তাদের উৎপাদিত পশু বিক্রি নিয়েও চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে।বৈশি^ক মহামারী করোনা ভাইরাস ও গত বছরের আকস্মিক বন্যায় খামারী ও গৃহস্থদের যে ক্ষতি হয়েছে অনেকেই তা পুশিয়ে উঠতে পারেনি।লোকসান এড়াতে পশু বিক্রিতে ক্রেতাদের আকর্ষনীয় সুযোগ সুবিধারও ঘোষনা দিয়েছে খামারীরা।খামারের গরু বিক্রি করতে না পারলে শ্রমিকদের বেতন পরিষদ ও গৃহস্থদের চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের দাশেরচর গ্রামের আদর্শ খামারী সানজিদা ইসলাম জানান, করোনার কারনে কোরবানীর হাট না মেলায় খামারের গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে গরু বিক্রিতে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।আর গ্রামা লে অনলাইনে কেনাবেচা এগুলো অনেকেই ভালোভাবে বুঝেনা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামের কামাল মোড়ল জানান,তিনি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন পালন করে আসছেন। এ বছর তার খামারে ২৭ মন ওজনের মাদারীপুরের বস নামের গরুটি দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে ভীড় করেছে। তিনি বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে তার গরুটি ৬ লাখ টাকা দাম করেছে। করোনার কারনে গরুর হাট না মেলায় সেই গরু তিনি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।

জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামের আদর্শ পশু পালন কেন্দ্রের মালিক মাস্টার আব্দুর রশিদ জানান, তার খামারে কোরবানীর যোগ্য গরু রয়েছে ৮৩টি। এ খামারের গরুকে খাওয়ানো হয় সবুজ ঘাস। খামারের পাসেই সাড়ে সাত বিঘা জমির উপর নেপিয়ার জাতের ঘাস লাগানো হয়েছে। গরু প্রতি প্রতিদিন প্রায় ২শ টাকা খরচ হয়। দৈনিক খরচ হয় ১৬ হাজার টাকা। খামারে ৬ থেকে ৮ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে। গত বছরের বন্যা ও করোনায় তার খামারের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। কোরবানীর ঈদে তার খামারের গরু বিক্রি করতে না পারলে শ্রমিকদের বেতন দিতেই হিমসিম খেতে হবে বলে তিনি জানান।

মাদারীপুর জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ.কে.এম আনোয়ারুল হক জানান,মাদারীপুর জেলায় কোরবানীর যোগ্য গরুর চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ১২৫টি। আমোদের উৎপাদন আছে ৩৬ হাজার ২২৩টি। চাহিদা পূরণ করে সারপ্লাস থাকবে। আমাদের খামারী পর্যায়ে মোটাতাজাকরণ করছে ৮হাজার ২৬০টি এবং পারিবারিক পর্যায়ে ২৭ হাজার ৯৭৫টি। ৬টি অনলাইন প্লাট ফর্মের মাধ্যমে খামারীদের গরু বেচাকেনা হচ্ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে আগামী ১৪ তারিখের পর সীমিত আকারে গরুর হাট বসানোর চিন্তা ভাবনা রয়েছে। এদিকে কোরবানীর গরু মোটাতাজাকরণে যাতে অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে এ জন্য ২৪টি ভেটেরিনারী মেডিকেল টিম কাজ করছে।

Comments

comments

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

add 720x200

Leave a Reply




add 300x600

উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক