মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ-
রাজৈর নিউজ অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। নিত্যনতুন সকল সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের নিউজে চোখ রাখুন:- https://www.facebook.com/rajoirnews  তাছাড়া সংবাদ এর ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে  BanglaNews Tube
সর্বশেষ সংবাদঃ-
রাজৈরে ভ্যানের জন্য যুবককে কুপিয়ে হত্যা মন্দিরে হামলা ও হিন্দুদের বাড়িঘর অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মাদারীপুরে গণ অনশন কর্মসূচী পালিত রাজৈরে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ শিবচরে চুরি হয়ে গেলো প্রাচীন শতবর্ষী নিদর্শনটি! রাজৈরে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  রাজৈরে নতুন ঘর পেল ৪৭টি পরিবার রাজৈরে যথাযগ্য মর্যাদায় শেখ রাসেল দিবস পালিত রাজৈরে স্বামী স্ত্রীর বিষ পান। স্বামীর মৃত্যু। স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক কুমিল্লায় যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি স্পষ্টভাবে বোঝা যায় এটি একটি ষড়যন্ত্র -শাজাহান খাঁন  দেশকে অস্থির করতে কখনো মন্দিরে কখনো মসজিদে ঘটনা ঘটানো হয়- শিবচরে দূর্গাৎসবে চীফ হুইপ লিটন চৌধুরী
রাজৈরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৪টি পরিবারকে অবরুদ্ধ

রাজৈরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৪টি পরিবারকে অবরুদ্ধ

Rajoir Pic 2 (1)

add 720x200

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের রাজৈরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৪টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল। তাদের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা ওই ৪ পরিবারের সদস্যরা। প্রকাশ্য দিবালোকে ভুক্তভোগীদের দখলকৃত জায়গার রান্না ঘর বাথরুমসহ গাছ পালা ভেঙ্গে তছনছ করে অসহায় নারী শিশুদের মারধোর করে বিরোধপূর্ন জায়গা জবরদখল করে বসত ঘরের সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিবারগুলো তাদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে বাথরুমে যেতে পারছেনা, রান্নাও করতে পারছেনা। এ অবস্থায় পরিবারগুলো অসহায়ের মত জীবনযাপন করছে। এ ব্যাপারে রাজৈর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, জেলার রাজৈর উপজেলার নয়ানগর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার ও রিপন হাওলাদারের মধ্যে বাড়ি জায়গা নিয়ে দির্ঘদিন বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি রিপন গংরা জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে মাদারীপুর দেওয়ানী আদালতে একটি নালিশী মামলা করেণ। মামলার খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে সালাম হাওলাদার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে রিপন হাওলাদার, লিটন হাওলাদার, নাসির হাওলাদার ও মহসিন হাওলাদেরর পরিবারের সদস্যদের ওপর নারকীয় হামলা করে বিরোধপূর্ন জায়গার ঘর, বাথরুম, বিভিন্ন গাছ-পালা ভেঙ্গে ফেলে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার এতই প্রভাবশালীযে ভয়ে কেউ ওই পরিবারটির পাশে দাঁতে সাহস পায়নি। এদিকে ওই পরিবারের সদস্য একই এলাকার হাবিবুর হাওলাদারের ছেলে লিটন, নাসির, মসসিন ও রিপন নিজ দখলীয় জায়গা দখলের খবর শুনে চট্রগ্রাম ও ঢাকা থেকে উক্ত চার ভাই বাড়িতে রওনা দেয়। ২৫ সেপ্টেম্বও আনুমানিক রাত ১টার দিকে তারা বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সালাম হাওলার, পান্নু হাওলাদার, সুমন হাওলাদার, অনিক হাওলাদার, সেলিম হাওলাদার, রাজন মিয়াসহ আরো বেশক’জন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। তাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে ওই পরিবারের ৮জন আহত হয়। মারাত্মক আহত লিটন হাওলাদার (৪৮) ও নাসির হাওলাদার (৪৫)কে প্রথমে রাজৈর হাসপাতালে পরে অবস্থা বেগতিক দেখে উভয়কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপালে ভর্তি করে। সালাম গংরদের হামলা থেকে ভুক্তভোগী নারীও শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তারা ৫ম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছোট্র হিমেলের ওপর আক্রমন করতেও দ্বিধা করেনি। ঘন্টা ব্যাপী তান্ডব চললের আহত লিটন ও সহোদরদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। মারাত্মক আহত অবস্থায় মাটিতে গড়াগড়ি করলেও তাদের ভয়ে কেউ হাসপাতালে নিতে সাহস পায়নি। পরে খবর পেয়ে রাজৈর থানার পুলিশ আহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

সালাম হাওলাদার গংদের সে দিনের তান্ডবের বর্নণা দিতে গিয়ে ৫ম শ্রেনীতে পড়ুয়া হিমেল ভয়ে থর থর করে কাঁপছিলো ।
হিমেল বলে, সাংবাদিক আংকেল হেইদিন রাতে ওরা আমার বাবা ও কাকারে ছ্যান দিয়া কোপাইতে ছিল, এ সময় আমি আমার বাবার কাছে গ্যালে ওরা আমারে পিটাইয়া মারছে, এ কথা বলেই হিমেল কেঁদে ফেলে।

গৃহবধূ লিপী বেগম বলেন, ওরা আমাগো রান্নাঘর, বাথরুম ভাইঙ্গা ফ্যালাইছে। এহন আমরা পরিবারের কেহ বাথরুমে যাইতে পারছিনা, এমনকি রান্নাও করতে পারিনা, এহন আমারা কোথায় যামু?

অপর গৃহবধূ শ্যামলী বেগমের সাথে কথা বলতে গেলে দেখা যায় তার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। সেদিনের নারকীয় তান্ডবের চিত্র ভূলতে পারেনি।

তিনি জানান, সালাম পান্নুসহ আরো লোকজন আমাগো চোখের সামনে সবকিছু তছনছ করে দিল। আবার আমাগো ঘরের সামনে বাঁশের বেড়া আটক্যাইয়া দিল। এহন আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনা।

ভুক্তভোগী রিপন হাওলাদার জানান, আমরা দির্ঘ ৫০/৬০ বছর যাবত উক্ত জমি দলিলমূলে ভোগ করে আসছিলাম। সালাম হালাদার কইছে ওই জমি তার নামে রেকর্ড আছে। আমরা রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করি। মামলার খবর শুনে সালাম হাওলাদার, পান্নু হাওলাদার সহ আরো ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী কায়দায় আমাগো জায়গার রান্না ঘর, বাথরুম, গাছপালাসহ সবকিছু ভেঙ্গে দেয়। তারা এমন কি আমাদের পোতার (ঘরের ভিটির)মাটি কাইট্যাও নিয়ে যায় আমরা এর বিচার চাই।

এ ঘনাটনায় সালাম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বাবাকে ওরা আটকাইয়া তার কাছ থেকে দলিল নেয়। এই জায়গা এখন আমাদের নামে রেকর্ড হইছে। তাই রেকর্ডমূলে এই জমির মালিক আমরা। অদের চেয়ারম্যান ও পুলিশে সবকিছু সরাইয়া নিতে বলছে কিন্তু অরা সরায় নাই । তাই একদিন সকালে আমরা জাইয়া অদের কিছু খরির পালা ছিলো তা সরাইয়া দিয়ে আমরা বেরা দিছি। তার পর অরা একদিন রাত ৪ টার সময় বেরা ভাংতে গেলে তখন আমরা বাধাদেই। তখন মারামারি হয় এতে অরা ও আমরা ইনজুরী হই। অরা হাসপাতালে ভর্তি হইছে। কিন্তু আমরা হইনাই।

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদি জানান,এ ব্যাপরে মামলা হয়েছে, একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।

Comments

comments

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

add 720x200

Leave a Reply




add 300x600

উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক