রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ-
রাজৈর নিউজ অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। নিত্যনতুন সকল সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের নিউজে চোখ রাখুন:- https://www.facebook.com/rajoirnews  তাছাড়া সংবাদ এর ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে  BanglaNews Tube
সর্বশেষ সংবাদঃ-
রাজৈরে খড়ের পালায় আগুন দিয়ে ৪ গরু চুরির অভিযোগ  আলোচিত মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনঃ শেষ পর্যন্ত বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত পরিবারের  নাদিরা আক্তার মনোনয়ন পেলেন রাজৈরে জোরপূর্বক ইউপি সদস্যর ৭০ গাছ কেটে নিল প্রতিপক্ষ, বাধা দেয়ায় হুমকির অভিযোগ  দীর্ঘ ৩৬ বছর স্বৈরশাসন মুক্তি হয়ে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে মানুষ- হিমেল আল ইমরান ইতালিতে খুন হওয়া মাদারীপুরের রাজৈরের যুবক সাগর বালার মরদেহ বাড়িতে এসেছে রাজৈরে মডেল মসজিদের উদ্বোধন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রোগমুক্তির কামনায় দোয়া মাদারীপুরে মসজিদের সামনের সরকারি জায়গায় দখল, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মাদারীপুরে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও কেক কেটে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন রাজৈরে বিদেশে পাঠানোর প্রতারণা করে প্রায় সারে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া দালাল দম্পতি র‍্যাবের হাতে যশোর থেকে গ্রেপ্তার শশুর বাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জীবন দিল ইতালি প্রবাসীর স্ত্রী
মাদারীপুরে বিএনপিতে বেড়েই চলেছে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব

মাদারীপুরে বিএনপিতে বেড়েই চলেছে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব

IMG_5943

আকাশ আহম্মেদ সোহেল, জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর: মাদারীপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বেড়েই চলেছে গ্রুপিং দ্বন্দ্ব। প্রতিনিয়তই স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হচ্ছে হাতাহাতি- মারামারি। ঘটছে বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে পরিত্রাণ চায় জনগণ।
জানা গেছে, শনিবার (১৭ মে) বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে পাল্টাপাল্টি দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। ওই আলাদা মঞ্চে জেলা বিএনপি নেতাদের নেয়াকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় তোপের মুখে পড়ে দুটি মঞ্চেই উপস্থিত হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন মারপিটে আহত হন।এর কয়েকদিন আগে রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে হাতাহাতির একপর্যায়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। পরে সেখানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণ:
বিএনপির লোকজন ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (১৭ মে) বিকেলে রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির দুটি গ্রুপ আলাদাভাবে দুই স্থানে মঞ্চ তৈরি করেন। উভয় স্থানেই স্থানীয় বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. জাফর আলী মিয়াকে প্রধান অতিথি,নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বজলু হাওলাদার ও অ্যাড. এইচ এম মিজানুর রহমানকে বিশেষ অতিথি করা হয়। পরে অতিথিদের বরণ করতেকবিরাজপুর ইউনিয়নের বিশ্বম্বর্দী ব্রিজ এলাকায় যায় দুই গ্রুপের লোকজন। এসময় জেলা বিএনপি নেতা জাফর, মিজানুর, মিল্টন বৈদ্য ও গাউস-উর-রহমানের সামনেই দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করে নেতারা প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ মঞ্চে গিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে মিয়া বাড়ি মঞ্চে গিয়ে উভয় পক্ষ একত্রিত করলে আবারও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সেখানেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন মারপিটের শিকার হন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. জাফর আলী মিয়া, সদস্য অ্যাড. এইচ এম মিজানুর রহমান, গাউস-উর-রহমান, সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য, রাজৈর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ একরাম হোসেনসহ বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী প্রমুখ।

এর আগে গত ৯ মে (শুক্রবার) বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নের কালিবাড়ি বাজারে হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে জেলা বিএনপির নেতারা। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জিয়া পরিষদের কার্যকরী সদস্য মো. জিয়াউর রহমান জিয়া ও আব্বাস শিকদারসহ কয়েকজন আহত হন। পরে কমিটি ঘোষণার জন্য ৭ দিনের সময় নিয়ে সম্মেলন শেষ করেন জেলা বিএনপির নেতারা।

ইউনিয়ন বিএনপির দুই গ্রুপ:
বিএনপির নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, কবিরাজপুর ২০ শয্যা হাসপাতাল সংলগ্ন মিয়া বাড়িতে তৈরি মঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান প্রার্থী চৌধুরী গোলাম মবিন (সোয়েব মিয়া) এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রার্থী সানোয়ার হাওলাদার। তারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ওহাব মিয়া ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহিদুর রহমান লেবু সমর্থিত।
অপর মঞ্চ তৈরি করা হয় কবিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে। সেখানে নেতৃত্ব দেন রাজৈর থানা যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী সরদার শহীদুল্লাহ্ রেজাউল এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী লতিফ হাওলাদার। তারা উপজেলা বিএনপি নেতা আরিফ হাওলাদার ও বাবু হাওলাদার সমর্থিত।
সভাপতি পদে সোয়েব মিয়া ও রেজাউলসহ ৮ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে সানোয়ার ও লতিফসহ ৮ জন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে হানিফ মাতুব্বর সহ ৭ জন ৫০০ টাকা মূল্যে ইউনিয়ন বিএনপির ফরম কিনেছেন। আগামী ৩ দিনের মধ্যে ফরমটি পূরণ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি:
মাদারীপুর জেলার পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে বিএনপির কমিটি গঠনের জন্য ২২ জন নেতাকর্মীকে দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। তাদেরকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ৭ টি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। ৬টি কমিটিতে ৩ জন করে ও একটি কমিটিতে ৪ জন রয়েছেন। প্রতিটি কমিটিকে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিএনপির কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ও কবিরাজপুর সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড. জাফর আলী মিয়া, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বজলু হাওলাদার ও সদস্য এ্যাড. এইচ এম মিজানুর রহমান। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন জেলা বিএনপির নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য এবং জেলা বিএনপি নেতা গাউছ-উর-রহমান।

গ্রুপিং নিয়ে নেতাদের বক্তব্য:
কবিরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী চৌধুরী গোলাম মবিন (সোয়েব মিয়া) ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রুপিং রাজনীতিটা জেলা পর্যায় থেকে শুরু। তারপর উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়েও এর প্রভাব দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা ৬-৭ জন ছাড়া এই ইউনিয়নে বিএনপি করার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। এখন নব্য বিএনপির অভাব নাই। সবাই আওয়ামী বিএনপি হয়ে গেছে। এসব আওয়ামী বিএনপি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি নেতা মিল্টন বৈদ্য বলেন, বিএনপি উপ মহাদেশের সবচেয়ে বড় একটি সংগঠন। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষই বিএনপি। আমরা আসার সময়ও একটা অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেছে। বড় সংগঠনে একটু ঝামেলা হবেই। যারা দুইটি মঞ্চ করেছেন সবাই বিএনপিকে ভালবাসেন। তারা নিবেদিত কর্মী। এর আগেও আরেকটি সম্মেলনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিলেন কিন্তু এখন আবার বিএনপিতে আসতে চাচ্ছেন, সেইসব আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা বিএনপিতে জায়গা পাবে না।

মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. জাফর আলী মিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা বা ব্যানারের সাথে কারো কোন ছবি তোলা থাকলে সে বিএনপির নেতা হতে পারবে না। আগের দিন দুটি ভ্যেনুর বিষয় নিয়ে আমার কাছে স্থানীয় নেতারা গিয়েছিলেন। একটি ছিল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ ও আরেকটি প্রাইমারি স্কুল মাঠ। কিন্তু আমি তাদেরকে বলেছিলাম দুই স্থানের কোন জায়গায়ই আমরা জাবো না। তৃতীয় পক্ষের করা ভ্যেনুতে সম্মেলন করবো। এজন্য মিয়া বাড়িতে ভ্যেনু করা হয়। আলাদা ভাবে আয়োজন করা নিয়ে একটা অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেছে। কেউ অধৈর্য হবেন না, ধৈর্য ধরুন। আওয়ামী লীগের নেতা বা ব্যানারের সাথে ছবি তোলা থাকলেই তার ফরম বিএনপি থেকে বাতিল করা হবে। কারো হুমকি ধামকিতে কাজ হবে না।

জেলায় বিএনপিতে বিভক্তি:
মাদারীপুর জেলা বিএনপি ৩ ভাগে বিভক্ত। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার অনুসারী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান। আরেক পক্ষের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি মিল্টন বৈদ্য। অপর আরেক পক্ষের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান।

আতঙ্কিত জনগণ:
মাদারীপুর জেলার সাধারণ জনগণ বলেন, দিন দিন বিএনপির দলের মধ্যে হিংস্রতা বেড়ে চলেছে। প্রতিটি এলাকায় বিএনপির ৩-৪ টা গ্রুপের লোকজন রয়েছে। কোন অনুষ্ঠান হলেই মারামারি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। কোন কোন জায়গায় নেতৃত্ব নিয়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হয়। এছাড়া সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ঠ জনগণ। যে যেভাবে পারছে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসে নাই তাতেই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে ক্ষমতায় আসলে তারা কি করবে তা বোঝাই যায়।

তারা আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হবে খেটে খাওয়া মানুষদের। এসব কর্মকাণ্ড থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। আমরা শান্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে চাই। রাজনীতি হোক শান্তি প্রিয়, কোন সংঘাত ন

Comments

comments

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক