বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিবচর : মাদারীপুরের শিবচরে হাসানউজ্জামান প্রিন্স (৪২) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে । গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। সোমবার দুপুরে শিবচর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের গুয়াতলা এলাকার নাসরিন আক্তার মায়ার মালিকানাধীন ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত প্রিন্স উপজেলার চরশ্যামাইল গ্রামের মৃত হাজী আবুল কাশেম চাঁনমিয়ার ছেলে।
পুলিশও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসান উজ্জামান প্রিন্স একসময় প্রবাসে ছিলেন। প্রবাস থেকে এসে শিবচর বাজারে নিজেদের থান কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তবে প্রিন্সের প্রথম স্ত্রী সাথে বিভোর্স হওয়ার পরে একাধিক বিয়ে করলেও স্ত্রীদের সাথে সংসার করা হয়ে ওঠেনি তার। কোন না কোন কারণে সংসার ভেঙেছে তার । তার রোজা নামের ৪ বছরের এক মেয়ে ও রাইয়ান নামে ৮ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার মান উন্নয়নের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রিন্স শিবচর পৌর শহরের হাতির বাগান মাঠ সংলগ্ন নাসরিন আক্তার মায়ার মালিকানাধীন ভবনের চতুর্থ তলার বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। গত চার পাঁচ দিন আগে তার ছেলেমেয়েরা দুজনেই তাদের পৈতিৃক বাড়ি চরশ্যামাইল গ্রামে বেড়াতে যায়। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার বেলা ১১ টার দিক কাজের বুয়া রিমু আক্তার প্রিন্সের বাসায় আসেন। কাজের বুয়া ভিতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে ডেকে কোন সাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিকসহ আশেপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। সকলে মিলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে দেখেন ফ্যানের সাথে প্রিন্সের লাশ ঝুলে আছে। পরে খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর প্রেরণ করে।
এদিকে মরদেহটি উদ্ধারের সময় দেখা যায় লাশের গলায় একটি টি-শার্ট পেঁচানো রয়েছে। আর টি-শার্টের উপরে রশি পেচানো। লাশটির জিহবার কোন অংশ বাইরে বের হয়নি। লাশের চোখও বন্ধ ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন আলামত দেখে প্রিন্সের মৃত্যু নিয়ে পুলিশ সদস্যদেরও সন্দেহ হয়।
নিহতের মামা হাজী সাইদুজ্জামান নাসিম বলেন, আমার ভাগিনার তেমন কোন শত্রু ছিল না আমাদের জানামতে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এটাও আমরা বলতে পারছি না, তবে আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সঠিক সত্যঘটনায় উদঘাটন হোক।
শিবচর থানার ওসি মোঃ রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, গলায় ফাঁসি দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। কেননা ফাঁসির দড়ির ভিতরে আরেকটি টি-শার্ট পেঁচানো ছিল গলায়। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। আমরা অধিকতর তদন্ত করছি এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্ত রিপোর্ট আসলেই পরিষ্কার হবে।