শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
রাজৈর নিউজ ডেস্ক: এক নারীকে ঘিরে অভিনব কৌশলে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দুই শ্রেণির পেশাজীবী—বাইক রাইডার ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। দিনের পর দিন একই ধরনের কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
কথায় আছে, “চোরের দশ দিন, গৃহস্থের এক দিন।” গত রোববার এমনই একটি ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বাজারের স্বর্ণকার পট্টিতে ওই নারীকে আটক করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে শাকিল নামে এক বাইক রাইডারকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় ভাড়া করে টেকেরহাটে নিয়ে আসেন লাবনী। বিকেল থেকে রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্বর্ণের দোকানে ঘোরাঘুরি করেন তিনি।
শাকিলের দাবি, ঢাকা থেকে আসার সময় লাবনী তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করেন। স্বর্ণের দোকানে প্রবেশের আগে তাকে চিপস খেতে দেওয়া হয়। চিপস মুখে দেওয়ার পর মাথা ঝিমঝিম অনুভব করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিপসটি ফেলে দেন। শাকিলের ভাষ্য, লাবনী এমন আচরণ করছিলেন যাতে আশপাশের মানুষ তাদের স্বামী-স্ত্রী মনে করেন।
পরবর্তীতে একটি স্বর্ণের দোকান থেকে প্রায় আট আনা এক রতি চার পয়েন্ট ওজনের এক জোড়া কানের দুল নিয়ে বের হয়ে যান লাবনী। বের হওয়ার সময় তিনি শাকিলকে দেখিয়ে বলেন, “উনি তো আছেন, আমি বিকাশ থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসছি।”
শাকিল জানান, তাকে অচেতন করতে না পারায় এমন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে তার সন্দেহ হয়। তিনি নিজের বাইকের কথা চিন্তা না করে লাবনীর পিছু নেন। এ সময় লাবনী একটি ইজিবাইকে করে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে শাকিলও দৌড়ে ইজিবাইকে উঠে পড়েন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবনীকে হেফাজতে নেয়।
আগের ঘটনাতেও একই অভিযোগ
‘রাজৈর নিউজ’-এ লাবনীকে নিয়ে একটি প্রতারণার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর একজন ভুক্তভোগী তার সঙ্গে বিশ জুন ২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাঠান।
ভুক্তভোগী সোহেল যশোরের বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বাইক রাইডার হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লাবনী তাকে ভাড়া করে ময়মনসিংহ নিয়ে যান। সেখানে একটি স্বর্ণের দোকানে প্রবেশের পর তাকে পানি পান করতে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বর্ণালংকার দেখার অভিনয় করেন লাবনী।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বাইক রাইডার অচেতন হয়ে পড়লে লাবনী তার ভ্যানিটি ব্যাগটি চেয়ারের ওপর রেখে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে দোকান থেকে বের হয়ে যান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে বাইক রাইডারদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্বর্ণের দোকানকে লক্ষ্য করে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে।