বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

নোটিশঃ-
রাজৈর নিউজ অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাগতম। নিত্যনতুন সকল সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের নিউজে চোখ রাখুন:- https://www.facebook.com/rajoirnews  তাছাড়া সংবাদ এর ভিডিও দেখুন ইউটিউব থেকে  BanglaNews Tube
সর্বশেষ সংবাদঃ-
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মহেন্দ্রদী জালালখাঁর বাড়ীর জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন ‘মরণফাঁদ’: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ফরিদপুর ডিভিশন ৯৫/৯৭ ব্যাচের বন্ধুত্ব মিলনমেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত রাজৈরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, টেকসই ও পুষ্টিনির্ভর কৃষির ওপর জোর পলাতক ১বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত গ্রেফতার,জেল হাজতে প্রেরণ রাজৈর উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু চাঞ্চল্যকর ঝুনু আক্তারী হত্যা মামলার প্রধান আসামী কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,পরিবারের দাবী হত্যা বাড়ির উঠানের গাছের মগডালে ঝুলছিলো মাইক্রো চালক আরিফের মরদেহ রাজৈরে ফল ব্যবসায়ী জাকির শেখকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, জেরে বসতবাড়িতে আগুন মাদারীপুরের শিবচরে আগুন আতংকে হাসপাতাল ছেড়ে পালালো রোগীরা
গণেশ পাগলের মেলায় পুলিশকে মেরে ৩০ রাউন্ট বুলেট নিয়ে গেল জুয়াড়ীরা

গণেশ পাগলের মেলায় পুলিশকে মেরে ৩০ রাউন্ট বুলেট নিয়ে গেল জুয়াড়ীরা

0

আকাশ আহম্মেদ সোহেল: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়িতে চলমান গণেশ পাগলের মেলায় (কুম্ভমেলা) এক পুলিশ কনস্টেবলের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তাকে মারধর করে ৩০ রাউন্ড শর্টগানের বুলেট ছিনতাই করে নিয়ে গেছে জুয়াড়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে ঘটনাটি ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে ছিনতাই হওয়া বুলেট গুলো এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। হামলার শিকার ওই পুলিশ কনস্টেবলের নাম মেহেদী হাসান। তিনি মাদারীপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়োজিত আছেন। এ ঘটনায় গনেশ পাগল সেবাশ্রমের সভাপতি মিরন বিশ্বাস ও কনস্টেবল মেহেদীসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ মে) রাত ১০ টা পর্যন্ত কদমবাড়ির গনেশ পাগল সেবাশ্রমের আয়োজিত কুম্ভমেলায় ডিউটি করেন পুলিশ কনস্টেবল মেহেদী। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ভোররাত ৪ টার দিকে তিনি সিভিল পোশাকে মেলার মাঠের জুয়ার আসরে যান। এসময় জুয়াড়ীদের সাথে তার হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তার সাথে থাকা সরকারি শর্টগানের ৩০ রাউন্ড বুলেট নিয়ে পালিয়ে যায় জুয়াড়ীরা।বৃহস্পতিবার রাতে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুম্ভমেলা বা গণেশ পাগলের মেলার মূল মাঠের মধ্যেই বসেছে সারি সারি জুয়ার আসর। প্রায় ২০ টি জুয়ার আসরে চলছে রমরমা জুয়া খেলা। বড় জুয়ার আসরের খোট বানানো হয়েছে বিভিন্ন মডেলদের ছবি দিয়ে। আর ছোট জুয়ার খোট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে চরকি। প্রতিটি জুয়ার আসর ৫-৬ জন করে পরিচালনা করছেন। মূহুর্তেই টাকায় হাত ভরে যাচ্ছে জুয়ার আসর পরিচালকদের, একই সাথে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে কয়েকটি জুয়ার আসর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জুয়াড়ীরা।
অপরদিকে কালী মন্দিরে প্রকাশ্যে চলে গাঁজা সেবন ও বিক্রি কার্যক্রম। সেখানে সুব্যবস্থাপনায় শত শত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা একত্রে বসে গাঁজা সেবন করছেন। তবে সকলের জন্য মাদক সেবন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও ওখানে আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।মেলার মাঠে জুয়ার আসর পরিচালনাকারী মাসুদ নামে এক জুয়ারি বলেন, জুয়ার খোটের বিষয় সব কমিটির (গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটি) লোকজন জানে, আমি কিছু জানি না। আমাকে ২ হাজার টাকা বেতনে কাজ করাইতেছে।
কালিপদ নামে আরেক জুয়ারি বলেন, এই জুয়ার আসরটা প্রসাদ মেম্বার বসাইছে। সে কদমবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি সদস্য। আমি শুধু দাড়াই আছি। কিছু বলি নাই।এ ব্যাপারে কদমবাড়ি গণেশ পাগল সেবাশ্রমের সভাপতি মিরন বিশ্বাস রাজৈর নিউজ’কে বলেন, জুয়ার আসর বসার ব্যাপারে কমিটি কিছু জানে না। আমরা যতবার যেনেছি পুলিশের মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছি।
তবে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এটা বলা যাবে না। তবে লালনের মাজারে যেমন চলে, এখানেও তেমনই চলে। এটা প্রশাসনও জানে। আমরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি,কিন্তু প্রশাসন পারে নাই। এখন আমরা কি করবো!মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম রাজৈর নিউজ’কে বলেন, পুলিশ কনস্টেবলের উপর হামলার ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থালে আছি। জুয়া খেলা ও গাঁজা সেবনের বিষয়টি যতোটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতেছি। অসংখ্য লোকতো যেকারণে কন্ট্রোল করা একটু টাফ। তারপরও আমাদের লেভেল থেকে এটা জিরো টলারেন্স।প্রসঙ্গত, বুধবার (২৮ মে) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়িতে শুরু হয় প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা বা গণেশ পাগলের মেলা যা স্থানীয়ভাবে কামনার মেলা নামেও পরিচিত। আগামী শনিবার (৩১ মে) পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী এ মেলা চলবে। মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের স্মরণে আয়োজিত এই ধর্মীয় উৎসবে দেশ ও বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। এ মেলাকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক ছোট বড় বিভিন্ন দোকান বসেছে। প্রতি বছর ১৫ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে এ মেলায় বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) রাত থেকেই দলে দলে জয় ডংকা ও নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জয় হরিবল ও জয়বাবা গণেশ পাগল ধ্বণি করতে করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাধু সন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা বাসে, ট্রাকে, ট্রলারে ও পদব্রজে মেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শত বছর ধরে মাদারীপুর রাজৈরের কদবাড়ির দিঘীরপাড় এলাকার মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের শাস্ত্রমতে সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থনে যে অমৃত সুধা উঠেছিল তা চারটি কুম্ভ পাত্রে হরিদ্বার, প্রয়াগ, উজ্জয়িনী ও নাসিক এ চারটি স্থানে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে ভারতীয় মুনি ঋষিরা কুম্ভ মেলার আয়োজন করে আসছেন। শত বছর আগে জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখে ১৩ জন সাধু ১৩ সের চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় এলাকায় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনুসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন। সেই থেকে এখানে মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মূল মেলা হয় এক রাতের জন্য। তবে এই মেলা চার দিন চলবে। কখনও কখনও সপ্তাহ ব্যাপীও হয়ে থাকে। এখানে বিভিন্ন দেবদেবতার ১০৮টি মন্দির রয়েছে।

Comments

comments

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক