বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
বিনয় জোয়ারদারঃ মাস পার না হতেই লিবিয়া হয়ে ইটালী যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে মাদারীপুরের রাজৈরের ২ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। নিহতরা হল উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের সিদ্দিক মাতুব্বরের ছেলে নাসির মাতুব্বর(৩৫) এবং চরমোস্তফাপুর গ্রামের আবু হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার(১৯)। নিখোঁজদের পরিচয় জানা যায়নি। গত ফেব্রুয়ারী মাসে শুধুমাত্র রাজৈর উপজেলারই ২০থেকে২৫জন মারা গিয়েছিল।
পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় , ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় লিবিয়া হয়ে ইটালী যাওয়ার উদ্যেশ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারী বাড়ী থেকে বের হয়েছিল সুমন হাওলারদার। পাশ্ববর্তী শাখারপাড় গ্রামের দালাল আরিফের সাথে ১৭ লক্ষ টাকা চুক্তি হয়েছিল। সে মোতাবেক ৩ মার্চ দিবাগত রাতে লিবিয়া থেকে গেম দিয়েছিল তাদের। কিন্তু বিধি হল বাম। বোট ফেটে নির্মম মৃত্যু হয় তাদের। কোনরকমে বেঁচে ফিরে আসাের মধ্য থেকে সুমনের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে জানানো হয়।
সুমনের দুলাভাই আল আমিন বাঘা জানায়, ১৭ লক্ষ টাকা চুক্তিতে আরিফ দালালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। ৩ মার্চ দিবাগত রাতে তাদের গেম দেওয়ার খবর পাই। তার ২ দিন পর শুনি সুমনের কোন খবর নেই।
সুমনের খালা জানায়, সুমনের ২টি ভাই পাগল, মা মারা গেছে ১০ বছর আগে। বাবা সুমনের খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পরেছে। তার স্যালাইন চলছে। এখন এদের পরিবারের কি হবে? আমরা গরীব মানুষ। ওর লাশটা দেশে নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।
অপরদিকে শাখারপাড় গ্রামের নাসির মাতুব্বর নওগা জেলার দিপু দালালের মাধ্যমে ১৬ লক্ষ টাকা চুক্তিতে ইটালী যাওয়ার উদ্যেশ্যে ২০ দিন আগে বাড়ী থেকে বের হয়েছিল। গত ৪ মার্চ তাদের গেম দিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যর নির্মম পরিহাস। ২ ঘন্টা বোট চলার পর ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় নাসিরের মৃত্যুর খবর আসে পরিবারের কাছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাসিরের বোন জানায়, আমাদের কোন অভিযোগ নেই, আমার ভাইয়ের হায়াত এপর্যন্তই ছিল। দালালরা তাকে স্পেশাল বোটে ডাবল ইঞ্জিন দিয়ে পাঠিয়েছিল। ভাগ্যে নেই।
রাজৈর থানার ওসি মোঃ মাসুদ খান জানান, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এ ব্যাপারে যারা অভিযোগ করছে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।