পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৪ মে) দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় ওই শিশুটির মা তাকে প্রতিবেশী কল্পনা দত্তের কাছে দেয়। পরে হাঁস শিকারের জন্য শিয়াল আসলে শিশুটিকে কল্পনা তার স্বামী রতনের কাছে দিয়ে শিয়াল তাড়াতে যায়। এসময় শিশুটিকে কোলে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে রতন। এরপর কোলে প্রসাব করেছে বলে কল্পনার কোলে দিয়ে দেয় এবং ওই শিশুকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আসতে বলেন। একপর্যায়ে শিশুটির মা (গোপনাঙ্গে) রক্ত দেখে প্রথমে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার দেখান । পরের দিন ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার।এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে শালিস মিমাংসার নামে মোটা অংকের টাকাসহ জমির দলিল হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করেন স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। সোমবার (২৬ মে) বিকেলে অভিযুক্ত রতনকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করে ১০ হাজার টাকা নেয় তারা। মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে আবার রতনের বসতবাড়ির জায়গার দলিল লিখে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধকে আটক করে এবং একই সাথে দলিলপত্রও উদ্ধার করা হয়।কদমবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলক বসুর ছেলে অমলেন বসু কচি শালিস মিমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং আলাদা গ্রামের বাসিন্দা হয়েও প্রতিবেশী দাবি করে বলেন, আমাকে প্রতিবেশী হিসেবে ডাকছিল, তাই গেছি। কিন্তু কোন শালিস মিমাংসা হয় নাই। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমাধানের কথা বলছিল। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত ও ভিকটিম দুই পক্ষকে থানায় নিয়ে গেছে। পুলিশ নিয়ে গেলে তো আর শালিস মিমাংসা করার কিছু থাকে না।
এসময় জায়গা জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ মাসের শিশুর সাথে এমন নিকৃষ্ট কাজ যে করে তাকে কি ছেড়ে দেবে মানুষ! রতন এর আগেও আরো ৩-৪ টা এরকম ঘটনা ঘটাইছে বলে দাবি করেন তিনি।এ ব্যাপারে মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, রহিম ওরফে রতন একটা শিশু বাচ্চার সাথে অশালীন কার্যকলাপ করেছে। খবর পেয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমকেও আমাদের থানা হেফাজতে আছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।